Loading...

অবিনাশী বন্ধু

পল্লববরন পাল

প্রাণাধিক বন্ধু। আশৈশব। এ ওর। ও এর। এক স্কুল, এক কলেজ, এমনকি চাকরিও আগাগোড়া একই অফিসে। মধ্যযৌবনে দুজনেই ফ্ল্যাট কিনেছে। দক্ষিণখোলা চারতলা। একই দিনে অবসর। উভয়েরই রক্তচাপ চিনি, সাদা ব্যাকব্রাশ চুল, নাকের ওপর বাইফোকাল। 
একটা সময় অবধি সারাদিনে অন্তত একবার রসময়ের গুমটিতে তেলচিটে ছারপোকাসমৃদ্ধ বেঞ্চিতে মুখোমুখি বসে চা-আড্ডা না হলে দুজনেরই ঘুম হতো না। চাকরিতে ঢোকার পর আর ফুরসৎ মেলেনি। 
উঃ, কতদিন পর আজ সন্ধ্যেবেলা দুই বরিষ্ঠ নাগরিক ফের মুখোমুখি। বাসস্ট্যান্ডের কফিশপে। ঠিক যেখানে রসময়ের গুমটি ছিলো, সেখানেই। মাল্টিস্টোরির একতলায়।  
ঝকঝকে শীতাতপ সম্ভ্রান্ত পরিবেশে সুদৃশ্য কাপে কাপুচিনো। সঙ্গে স্মৃতির কুকিজ্‌। টেবিলের দু’পাশে দু’জন আর মাঝখানে টেবিলের ওপর দুটি বাইফোকাল চশমা - মুখোমুখি। 
ঘন্টাখানেক সময় হুশ্‌!
এক্সকিউজ মি – ওয়াশ্রুম?
ওয়েটারের আঙুল তাক করলো মূল কাচের প্রবেশদ্বারের পাশের ছোট দরজার দিকে। চোখের ইঙ্গিতে বন্ধুর অনুমতি নিয়ে একজন উঠে গেলো। অন্যজন একলা অন্যমনস্ক হাতে কাপের নিচের ভেজা চিনির দানাগুলোকে চামচে করে মুখে তুলছিলো। ওয়েটার এসে বিল দিতে চমক ভাঙলো। 
আরে! ব্যাটা এখনও আসেনি? ও, পেমেন্ট না হলে ওয়াশ্রুম থেকে বেরোবি না তুই? আচ্ছা -   
এবার ওয়াটারকে আঙ্গুল তুলে ওয়াশ্রুমের দরজা দেখিয়েই নজর এড়িয়ে এক লাফে কাচের দরজা খুলে ফুটপাথ। পরের লাফে সন্ধ্যের ব্যস্ত রাস্তা টপকে উল্টোফুটের ঘাপটিতে মিশে যেতে যেতে অবিনাশ দেখলো - পাশের লাইটপোস্টে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অবিনাশ। 
দুই অবিনাশ মুখোমুখি – অস্বস্তিতে চুপ।
কফিশপের টেবিলের ওপর দুই বাইফোকাল চশমা মুখোমুখি – শোকে চুপ। 


Liked our work ?