ওয়াংশির সাথে পৃথকের দেখা হল রিনচেনপঙের চোলিং গুম্ফার বাইরে । মনেষ্ট্রীর বাইরে পাহাড়ের ঢাল ঘেঁষে একটা ঝাঁকড়া শিমুল গাছ। পাহাড়েও শিমুল হয়! শিমুল পলাশের পালা প্রায় শেষ করে এবারে পৃথকেরা এসেছে পাহাড়ে রোডোডেনড্রন দেখতে। দূর থেকে পাহাড়ে শিমুল দেখে খানিকটা ভ্রম হলো, এটাও সেই রোডোডেনড্রন গাছ নয়তো? ভাল করে দেখল ,না শিমুলই।
শিমুল থেকে মুখ ফিরিয়ে গুম্ফার দিকে মন দিতে গিয়ে ওয়াংশিকে নজরে পড়েছে পৃথকের, গুম্ফার বাইরের বেঞ্চে বসে আছে। একা। কাছে গিয়ে ওয়াংশিকে দেখে অবাক হল। মুখ দেখে বয়স বোঝা যায় না, পঞ্চান্ন ও হতে পারে আবার পঁয়ষট্টি ও। শুধু চোখের দিকে তাকালে তল খুঁজে পাওয়া যায় না। পৃথক চোলিং মনেষ্ট্রীর চারপাশে এক চক্কর ঘুরে এসে দেখে তখনো বসে আছে সে।
কাছে গিয়ে বসতে চোখের ভাষায় জিজ্ঞেস করল - আজনবী? পৃথক মাথা নেড়ে সায় দিল। নাম জিজ্ঞেস করতে বলল - ওয়াংশি।
ওয়াংশির চোখের মধ্যে অদ্ভুত এক কৌতুক ছিল। জিজ্ঞেস করবে কি করবে না করতে করতে বলেই ফেলল - থাকেন কোথায়? ঠিক মত জবাব না দিয়ে বলল- আশপাশ।'আশপাশে'র কোন মানে হয় না, অন্তত পৃথকের মত আজনবীর কাছে। একটা দুটো কথা বলে পৃথক উঠে পড়ে। ফেরত আসতে আসতে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে ওয়াংশি ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি করে হাসছে।
ওয়াংশির চোখের ভাষা কিন্তু পৃথককে ছাড়লো না। পৃথক কার সাথে যেন কথা বলে চলে- না গো, আমি আজনবী আমার অত সময় কোথায়?
- সময়ই তোমাকে খুঁজে নেবে। এই পাইনবনের ফাঁক দিয়ে কুয়াশার দোলনা বেয়ে যে রাস্তা চলে গেছে। চলতে শুরু করলেই তোমার সঙ্গে মেঘেরা এসে গল্প করবে । নিয়ে যাবে তোমাকে সেই সেইখানে গো, যেখানে রাজকন্যা ঘুমিয়ে আছে।
- শোনাও তাহলে। আসলে রাজকন্যে যখন রয়েছে, গল্পটা সেই রাক্ষস খোক্ষস আর রাজকন্যার গল্পের মত হবে। ওতো আমি ছেলেবেলা থেকেই শুনেছি। পৃথক বলে উঠে।
- শুনেছো তো কি হয়েছে? সত্যি করে বলতো, তুমি সারাজীবন ধরে রাক্ষস খোক্ষস আর রাজকন্যার গল্প কতবার বানিয়েছো। এখনো তো বানাও।
-আ মলো যা! কেলেংকারীর একশেষ! এ তো পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে সব সত্যি কথা বের করে ফেলবে! তাড়াতাড়ি কথা ঘুরিয়ে পৃথক বলে - পাখিদের কথা যদি বুঝতে না পারি?
-পারবে পারবে। মন দিয়ে শুনতে চাইলে ঠিক বুঝতে পারবে।
ওয়াংশি বলে চলে - রোডোডেনড্রনের জঙ্গলে হাঁটবে যখন তখনও গল্পটা তুমি শুনতে পাবে। কান পাতলেই পাখিরা এসে শুনিয়ে যাবে তোমাকে।বিশ্বাস হল না, আলতো করে বলে ফেলে পৃথক - শুধু আমাকে? উত্তর না দিয়ে ওয়াংশি মিটিমিটি হাসল।
পরদিন রাবডেন্সির জঙ্গলে টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে পৃথক একা এগোল। বারবার মনে হচ্ছিল একটা ছাতা থাকলে বেশ হতো। হঠাৎ দেখি কানের কাছে কে বলে উঠলো ছাতা লাগবে না। লেন্সের উপর দু'ফোটা আসমানী শরবত দিয়ে দেব দেখো কেমন লাগে!
শরবত? পৃথক চমকে উঠল। কে বলল এসব কথা? আশে পাশে তো কেউ নেই। বিশাল বিশাল পাইনের পাতায় বৃষ্টির ফোঁটার শব্দ আর দুরে কোন একটা পাখি টিঁ টিঁ করে শব্দ করছে। আবার কে যেন বলে উঠলো - শুধু চোখ দিয়ে নয় মন দিয়ে দেখো ঠিক দেখতে পাবে। রাস্তা চিনতে গেলে শুধু চোখের দেখা নয়, দেখার চোখ চাই! এসব এচোঁড়ে পাকা কথা একটু কেমন কেমন লাগছিল পৃথকের।
কাউকে না দেখেই জিজ্ঞেস করে ফেলল - রাজকন্যার ঘুম ভাঙাতে ফুলের ছোঁয়া লাগে না?
-হ্যাঁ তা লাগে।
-কোন ফুল?
-কেন ? এই রোডোডেনড্রন। রোডোর ভ্যালী থেকে আসল ফুলটা নিয়ে রাজকন্যের মুখে ছোঁয়ালে তবে রাজকন্যার ঘুম ভাঙ্গবে।
পাশ থেকে কে বলে উঠলো - ফুলেও হয়, গান শোনালেও হয়। পৃথক তাকিয়ে দেখে ওয়াংশি।
-গান? আমি তো গান গাইতে পারিনা।
আসল রোডো নকল রোডো শুনে কেমন অস্থির হয়ে উঠল পৃথক। আসলে কোন কালেই তো সে তেমন চালাক চতুর নয়।
- কেমন করে চিনবো? হুট করে বলে উঠল পৃথক- কৃষ্ণচূড়ায় হবে?
প্রশ্ন শুনে ওয়াংশি চুপ করে গেল। একটু গম্ভীর হয়ে বলল - ঐ যে পাখিটা গান গাইছে ওকে জিজ্ঞাসা কর তো?
-ও আমার কথা বুঝতে পারবে?
-পারবে।
ওকে কি নামে ডাকি? শেষমেষ ডাক দিল - পাখি, ও পাখি শুনছো?
ডাক শুনে পাখিটা সটান পৃথকের সামনে এসে বলল - কি ব্যপার? এমন অভদ্রের মত তোমরাই ডাকতে পারো। আমার কি নাম নেই নাকি?
পাখির কথা তো সত্যিই বুঝতে পারছে! পৃথকের খুব লজ্জা লাগলো। সত্যিই তো।
ও লজ্জা পেয়ে বলি - তোমায় যদি একটা নাম দিই তুমি সাড়া দেবে?
ধূত্তেরী সময় মত টুনটুনি ছাড়া আর কোন পাখির নাম ও মনে পড়েনা। হুট করে পৃথকের মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল- তিতির। তিতির বলে ডাকি তোমায়?
পৃথকের লজ্জা পাওয়া মুখ দেখে তিতির বলল - আচ্ছা বলো দেখি, কি বলছিলে?
- বলছিলাম রাজকন্যার ঘুম ভাঙাতে গেলে কি শুধু রোডো চাই, অন্য ফুল হলে চলবেনা?
-কোন ফুল?-ধরো কৃষ্ণচূড়া, পলাশ , শিমুল
ওমা এই সব কথা বলে মুখ তুলে দেখে তিতির কখন ফুড়ুৎ করে উড়ে গেছে। আর ওয়াংশিও ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে। হাসছে কিনা বোঝা গেল না।
পৃথক আস্তে আস্তে বলল- জানো,আমার একটা রাধাচূড়া গাছ ছিল কিশোরবেলায়। দোতলার জানালা দিয়ে তারসঙ্গে গল্প হতো রোজ।
ওয়াংশি বলল- তাই নাকি?
- ওয়াংশি,শুধু রাধাচূড়া না,শার্ঙ্গ বলছিল জারুলের কথা। জারুল ফুলেও নাকি ঘুম ভাঙতে পারে রাজকন্যার।অমলতাস? তার ওনাকি অনেক গুন।
ভেতরে ভেতরে রাগ ও হচ্ছিল খুব। রাধাচূড়ার কথা মনে পড়তে না পড়তে জারুল, অমলতাসের আনাগোনা ভাল লাগছিল না পৃথকের।
যেমন করে তিতির পালিয়ে ছিল তেমনি করে আবার উড়ে এসে কানের কাছে বলে গেল - রোডোতেও হয় জারুলেও হয়। পলাশেও হয় অমলতাসেও হয়। আর হ্যাঁ শার্ঙ্গ কে?
- আমার বন্ধু। নাম শার্ঙ্গরব।
-ওএত কথা জানলো কেমন করে?- কি জানি , শার্ঙ্গ সব জানে।
তিতির বলে রাজকন্যে জেগে উঠলে আপনা থেকেই পাহাড়ের যত মনেষ্ট্রী আছে তাতে বেজে উঠবে শার্ঙ্গ জোরব। শিঙ্গা ফুঁকবে গুম্ফার পুরোহিতরা। ঐ শিঙ্গার শব্দের নাম শার্ঙ্গরব। হ্যাঁ আর কি সব বলছিলে না রাধাচূড়ার কথা?
পৃথক বলল- বলছিলাম তো, এয়ারোগ্রাম এনভেলাপ কিনে আনতাম। সারাদিনের গল্প জড়ো করে ভরে দিতাম সব এনভেলাপে। তারপর আঁঠা দিয়ে সাঁটিয়ে ফেলে দিতাম ডাকবাক্সে। তখন প্যাস্টেল বুলিয়ে বুলিয়ে গল্প ,খাম সব রঙিন করার কি ঝোঁক! কোথায় থেকে পৃথককে লজ্জা ঘিরে ধরে। কিশোর কালের লজ্জা। ঘাড় ঘুরিয়ে, এদিক ওদিক দেখে, কেউ দেখে ফেললে নাতো! কেউ নেই, জঙ্গুলে রাস্তায় সে ছাড়া আর কেউ নেই ! তবু চশমার তুলে আবার নিজেকে স্মার্ট বানানোর চেষ্টা করে পৃথক।
একটু এগোতেই একটা রোডোর গাছ থেকে টুক করে নেমে এল তিতির। একটু অবাক হয়েই বলে ফেলল- এয়ারোগ্রাম! আশ্চর্য, রাজকন্যার ঘরের মধ্যে অনেক অনেক এয়ারোগ্রাম খামের ছেঁড়া ফ্ল্যাপ দেখতে পাই। ওগুলো রাজকন্যেকে কে পাঠিয়েছিল কেজানে!
মনে মনে একটু আশার সঞ্চার হল। জানে মিথ্যে, রাধাচূড়া গাছটা কবেই মারা গেছে আর একব্যাগ এয়ারোগ্রাম পৃথক নিজেই পুড়িয়ে জল ঢেলে দিয়েছে।
একটু একটু করে এগোতে থাকে পৃথক, ওয়াংশি আর তিতির মাঝে মাঝেই কুয়াশা আর মেঘের মাঝে মিলিয়ে যাচ্ছে।
মনে পড়ে যায় কাল রাতে শার্ঙ্গ মাথায় এক অদ্ভুত লাইট জ্বেলে ভীষণ আবেগ নিয়ে বলে উঠে ছিল - যে শুভক্ষণে মম আসিবে প্রিয়তম/ ডাকিবে নাম ধরে অকারণ....
সবাই বলে ফেলল - এই রে শার্ঙ্গের নেশা হয়েছে। এসব কথা পৃথকের কেন মনে আসছে কেজানে।
রাস্তার ধারে কারা যেন পাথরের উপর পাথর সাজিয়ে গেছে, পাহাড়কে জানান দিয়ে গেছে, এসেছিলাম। কানের কাছে ওয়াংশি বলে বসল - ফুল দিয়েও হয়, কবিতা দিয়েও হয়। রাজকন্যার ঘুম কবিতা দিয়েও ভাঙে। তুমি কবিতা জানো? পৃথক আমতা আমতা করে বলল- না তো, আমি কবিতা জানিনা। কোন একসময় জানতে চেষ্টা করেছিলাম। কবিতা জানে তপু, মুখের কথায় কবিতা বানিয়ে দিতে পারে। আর জানে বৃষ্টি। সে আসেনি এবার। সে রাগ করে আছে। মুখে বলেছে তার বাড়ির কার যেন অসুখ।
এই করতে করতে কখন যে জঙ্গল শেষ করে মনেষ্ট্রীর তলায় এসে দাঁড়িয়েছে পৃথক বুঝতে পারেনি। তাকিয়ে দেখে এক মস্ত সিঁড়ি। শেষ দেখা যায় না। মেঘে মিলিয়ে গেছে। সিঁড়ির দুই দিকে বৌদ্ধ মন্ত্র লেখা সার দেওয়া ড্রাম। সিঁড়ির নিচে পৃথক দাঁড়ায় দু'মিনিট। আশেপাশে কেউ নেই। ঐ ড্রামগুলোর একটাতে হাত দিয়ে ঘোরাতে আপনা থেকেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে - ওম মনিপদ্মে হুম। ড্রাম গুলো হাত দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে উপরে উঠতে থাকে পৃথক। মনে মনে বলে - সবার ভাল হোক।
হঠাৎ পৃথক শোনে হাতির আওয়াজ। প্রথমে একটু অস্পষ্ট, তারপর একদম স্পষ্ট হাতির আওয়াজ। বৃংহন। শুরুতে আওয়াজ ছেড়ে ছেড়ে হচ্ছিল, একটুখানি সময়ের মধ্যে হাতির ডাক ঘন ঘন হতে লাগল। কি ব্যাপার অবাক হয়ে আশেপাশে তাকাতেই দেখে ওয়াংশি কখন পৃথকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তিতির ও পৃথকের কাঁধে টুপ করে বসল। পৃথক জিজ্ঞেস করল - হাতি? এই পাহাড়ে হাতি কোত্থেকে এল?
দু'জনেই চুপ। কোন জবাব নেই। শুধু ওদের ভেতরে ভেতরে একটু ছটফটানি ভাব।
পৃথক ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল কি যেন এক গন্ডগোল।
ওয়াংশি পৃথককে খুব মৃদু করে বলল - হাতি নয়। এইই তোমার শার্ঙ্গরব।
এদিকে পাহাড় তখন মুখরিত শার্ঙ্গরবে। ওয়াংশির কথার আকষ্মিকতায় পৃথকের বুঝে উঠতে কয়েক সেকেন্ড লাগে। হঠাৎ পা দুটো ভারি হয়ে আসে। বসে পড়তে ইচ্ছে করছে। ড্রামে ভর দিয়ে পৃথক নিজেকে সোজা রাখে। কে তার ঘুম ভাঙ্গালো? নাকি রাজকন্যা কোন দিন ঘুমোইনি।
পৃথকের কাঁধ থেকে তিতির হঠাৎ উড়ে গেল উপরে। একটু পরে ফিরে এসে বলল - ঐ তো রাজকন্যা নিজেই নেমে আসছে।
পৃথকের তখন খুব অস্থির লাগছিল। কি হল? কি হল? এতদূর এলাম? কি হবে এবার? রাজকন্যা নেমে আসছে সিঁড়ি বেয়ে , প্রত্যেক সেকেন্ডে ব্যবধান কমছে দু'জনের।
রাজকন্যার ঘুম ভেঙ্গে গেছে। সে নয়, সে নয়, অন্য কেউ। কোন সে অলীক দেশের রাজকুমার এসে ফুলের ছোঁয়ায় তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে তবুও পৃথক ফুল খুঁজতে লাগল। হাতে একমুঠি রোডোডেনড্রন ফুল ছিল, ড্রাম ঘোরানোর ফাঁকে কখন পড়ে গেছে সেসব। কৃষ্ণচূড়া ও নেই জারুল ফুল ও নেই। যদিও এখন এসব কোন কাজে লাগবে কি জানে! হড়বড়িয়ে বলতে গেল
- চুমিয়া যেও তুমি আমার বনভূমি/ দখিন সাগরের সমীরণ.... জড়িয়ে গেল গলা।
সে কন্যে সেসব কিছুই শুনলে না। সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পৃথকের দিকে মুখ তুলে তাকালো। যেন অনেকদিন পরে পরিচিত কাউকে দেখে ফেলার চাউনি দিয়ে জিজ্ঞেস করল - ইস্ এভরিথিং ওকে?
পৃথক কি বলবে বুঝতে পারে না। গলার কাছে দলা পাকিয়ে গেছে, মুখ দিয়ে কিছুই বেরোল না, মনে মনে বলতে লাগল - বেনীমাধব বেনীমাধব তোমার বাড়ি যাব। দেখে রাজকন্যে আস্তে আস্তে দীপ্ত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে টুপ করে চেপে বসলো মেঘের নৌকায়। পৃথক আর দেখতে পেল না তাকে।
ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে শার্ঙ্গরব। হতবাক পৃথকের দুই পাশে ওয়াংশি আর তিতির। তিতির কাঁধে বসে।
এতক্ষণে তিতির পৃথককে খুব নরম করে জিজ্ঞেস করল - তুমি কোথায় থেকে এসেছো? যে জিজ্ঞাসা অনেক আগেই করার কথা ছিল। পৃথক ঠিক মনে করতে পারছিলাম না সে কোথায় থেকে এসেছে।
ওয়াংশি বলল - আর উঠে কাজ নেই চলো বরং সিঁড়ির পাশে যে পাহাড়ের ঢাল সেই ঢালের ঘাসে বসি গিয়ে।
ওয়াংশিও জিজ্ঞেস করল - কোথায় তোমার বাড়ি?
ভেবে ভেবে বলতে লাগল পৃথক - আমি... আমি এসেছি আম জাম কাঁঠাল মোড়া গাঁ পেরিয়ে ... সেখানে নারকেল আর বাঁশবাগান ঘেরা পুকুর..
ওয়াংশি পৃথককে থামিয়ে দিয়ে বলল - এসব বানানো কথা। বিশ্বাস হয়না।
পৃথক বললো -সত্যি ওসব বানানো কথা। লোহার পাতের মধ্যে আমার বসবাস। তবে সেখানেও প্রথম বৃষ্টিতে ভাপ ওঠে। দেখবে তুমি?
পুনশ্চ ঃ
অনেক বছর পর প্রেমেন্দ্রের শুভঙ্করের মত পৃথক বেড়িয়ে এসে এক চিঠি লিখলো নন্দিনীকে। (যুগের নিয়মে কিছু ছবি সমেত)
উত্তরে নন্দিনী লিখলো -
"ভাঁজ হারালো একলা চিঠি
কাজ হারালো কাজি
মেঘের নিচেই লুকিয়ে ছিলো
সমস্ত কারসাজি।
সঙ্গে কিন্তু বর্ষাতি নেই
ভিজলে ভালো এমন দিনেই
কাল কি হবে, কে জানে!
তাই বৃষ্টি নামুক আজই।"
Liked our work ?